আজ ভোরে ইন্টার মায়ামি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে, ৩৪ বছর বয়সী ব্রাজিলের জাতীয় দলের খেলোয়াড় কাসেমিরো বিনা ট্রান্সফার ফিতে ক্লাবটিতে যোগ দিয়েছেন। এরপর মেজর লিগ সকার এক বিবৃতিতে জানায়, খেলোয়াড়টিকে দলে টানার প্রক্রিয়ায় ইন্টার মায়ামির বিরুদ্ধে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে এবং এ নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।

এমএলএসের আনুষ্ঠানিক বিবৃতির পূর্ণাঙ্গ ভাষ্য
ইন্টার মায়ামির বিরুদ্ধে অননুমোদিত যোগাযোগের যে অভিযোগ উঠেছে, তা পর্যালোচনা করছে মেজর লিগ সকার। লিগ এ-সংক্রান্ত সব তথ্য সংগ্রহ করছে এবং পর্যালোচনা শেষ হওয়ার আগে আর কোনো মন্তব্য করবে না। কাসেমিরোকে চুক্তিবদ্ধ করার ‘অগ্রাধিকারমূলক ডিসকভারি অধিকার’ নিয়ে ইন্টার মায়ামি ও এলএ গ্যালাক্সি ক্ষতিপূরণ চুক্তিতে পৌঁছেছে। তবে অননুমোদিত যোগাযোগের তদন্ত শেষ হওয়ার পরই চুক্তির নির্দিষ্ট শর্ত প্রকাশ করা হবে। (বিবৃতি শেষ)
দ্য অ্যাথলেটিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাসেমিরোর সঙ্গে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আলোচনার অধিকার মূলত এলএ গ্যালাক্সির ছিল। এমএলএসে এই ব্যবস্থাকে ‘ডিসকভারি রাইটস’ বলা হয়। জনপ্রিয় কোনো খেলোয়াড়কে ঘিরে একাধিক ক্লাবের পারস্পরিক দর-কষাকষি ঠেকানোই এর উদ্দেশ্য। নিয়ম অনুযায়ী, সম্ভাব্য কোনো খেলোয়াড়ের সঙ্গে যোগাযোগের আগে সংশ্লিষ্ট ক্লাবকে তাঁর ডিসকভারি অধিকার নিতে হয়।
কাসেমিরোর ডিসকভারি অধিকারের জন্য এলএ গ্যালাক্সিকে ক্ষতিপূরণ দেবে ইন্টার মায়ামি। তবে নির্দিষ্ট অঙ্কটি আংশিকভাবে অননুমোদিত যোগাযোগের তদন্তের চূড়ান্ত ফলের ওপর নির্ভর করবে।
দ্য অ্যাথলেটিকের পরবর্তী প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে ইন্টার মায়ামির এমএলএসের শাস্তির মুখে পড়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়।
২০২১ সালে তদন্ত শেষে এমএলএস সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে ক্লাবটি বেতনসীমার নিয়ম এড়িয়ে গেছে। এরপর ইন্টার মায়ামির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ও ক্রীড়া পরিচালক পল ম্যাকডোনাফকে এক বছরের জন্য বরখাস্ত করা হয় এবং ক্লাবটিকে ২০ লাখ ডলার জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি মহাব্যবস্থাপক হোর্হে মাসকে আলাদাভাবে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়। ২০২২ ও ২০২৩ সালে ইন্টার মায়ামির বরাদ্দ অর্থ থেকেও মোট 2,271,250 ডলার কেটে নেওয়া হয়।
ইন্টার মায়ামি মাতুইদির বেতন কম দেখিয়ে তাঁকে নির্ধারিত খেলোয়াড়ের মানদণ্ডের নিচে নিবন্ধন করেছিল। কিন্তু বাস্তবে তাঁকে ১০ লাখ ডলারের কয়েক গুণ অর্থ দেওয়া হয়েছিল এবং ওই পারিশ্রমিকের কথা লিগকে জানানো হয়নি। এমএলএস আরও দেখতে পায়, রেয়েসকেও নির্ধারিত খেলোয়াড় হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা উচিত ছিল। ২০২০ মৌসুম শুরুর আগে আতলেতিকো নাসিওনাল থেকে এক বছরের ধারে যোগ দিয়েছিলেন রেয়েস।
তদন্তে আরও দেখা যায়, ইন্টার মায়ামি একাধিক অপ্রকাশিত চুক্তি করেছিল। এর ফলে পিরেস, ফিগাল ও কারানসার বেতন বাবদ বাজেটে ধরা অঙ্ক প্রকৃত পরিমাণের চেয়ে কম দেখানো হয়েছিল।
গত গ্রীষ্মেও এমএলএসের সঙ্গে ইন্টার মায়ামির বিরোধ হয়েছিল। চোটের চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রমাণ ছাড়াই লিগের অল-স্টার ম্যাচে অনুপস্থিত থাকায় মেসি ও আলবাকে প্রত্যেককে এক ম্যাচ করে নিষিদ্ধ করা হয়। ক্লাবের মালিক হোর্হে মাস প্রকাশ্যে লিগের নিয়মকে ‘কঠোরতার দিক থেকে প্রায় নিষ্ঠুর’ বলে অভিহিত করেন এবং দুই তারকার পক্ষে কথা বলেন।